সস্তায় সিল্করুট ভ্রমণ পরিকল্পনা ৫/৬ দিনের জন্য বিস্তারিত তথ্য

প্রতিদিন কাজের চেপে আপনি কি হাপিয়ে উঠেছেন? মনটা চাইছে আবার একটু ঘুরে আসা যাক? যদি সেটা হয় বরফ ঘেরা পাহাড়? যদি সেটা হয় অজগর সাপের মত জিগজ্যাগ রোড? তাহলে আর ভাবছেন কেনো এখনই বেরিয়ে পড়ুন ৫/৬ দিনের জন্যে সিল্ক রুট বা রেশম পথের উদ্দেশ্যে । আজকে আপনাকে বিস্তারিতভাবে জানাবো কোথায় যাবেন? কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন? হোটেলের ফোন নাম্বার সহ গাড়ি ডিটেলস সমস্ত কিছুই। আপনারা প্রথমে হাওড়া শিয়ালদা স্টেশন থেকে রাত্রের ট্রেন ধরে নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন অথবা আপনারা ফ্লাইট ধরে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট এ উপস্থিত হতে পারেন প্রথমেই বলে রাখি সিল্করুট হল পূর্ব সিকিম এবং তিব্বতের লাসা কে যুক্ত করেছে নাথুলা এবং জেলেপ লা পাসের মাধ্যমে এই সিল্ক রুটের ঐতিহাসিক তাৎপর্য প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সভ্যতার বিনিময় বিশেষত চিনা ভারতীয় প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির আদান প্রদানের মাধ্যম ও তার আশে পাশের অঞ্চল এবার আমাদের ভ্রমণ তালিকা সংযুক্ত হলো।

সিল্করুট কে আপনারা দু’ভাবে ভ্রমণ করতে পারেন প্রথম ক্ষেত্রে আপনারা চাইলে গ্যাংটক দিয়ে শুরু করে নাথুলা, কুপুপ, নাথাং ভ্যালি , জুলুকে, মানখিম, সিলারিগাঁও ঘুরে নিউ জলপাইগুড়ি ফিরতে পারেন আবার দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনারা সিলেরিগাওন, মানখিমে পথ ধরে সিল্করুট যেতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকে বলে রাখি আপনাদের সমস্ত ট্যুরের জন্য আগে থেকে গাড়ি বুক করে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে কতগুলি ড্রাইভার এর ফোন নাম্বার দিচ্ছি আপনারা এগুলি ট্রাই করুন এবং দরদাম করে গাড়ি বুক করুন। ড্রাইভার এর নাম্বার :-

1. Vijay Gurung :- 8967653398,….…..2.Driver Jeeja:- 9800571261,,,,, 3. Driver Raju Rai:- 7478913884,,,,,, 4.Driver Mamaji:- 8016891192,,,,,,,, 5.Driver Pujan Chetri: 9679715673,,,,,, 6.Driver Dawa tamang- 9609872995,,,,,,,,,, 7.Driver- Sukhman- 9002728350,,,, 8.Driver Mingma-9635933767

মোটামুটি আপনারা গাড়ি ভাড়া প্রতিদিন ৩০০০-৩৫০০০ টাকা ধরে চলুন। আর হোটেলের থাকা-খাওয়া মিলে ১০০০-১২০০ টাকা মাথাপিছু ধরে চলুন। এবার আপনাদের হোটেল কত গুলি ফোন নম্বর দিচ্ছি। নিজের পছন্দ মত বেছে থাকতে পারেন। হোটেল বলা ভুল। এগুলি প্রত্যেকটি হোম স্টে। ওখানে প্রত্যেকটি হোমস্টে। হোম স্টে জন্য যোগাযোগ করতে পারেন:

  1. Banalata homestay rishikhola: 7866865176,,,,,,
  2. Sillery gaon- Nirmala village Resorts homestay:- 9933922859
  3. Mankhim- kanchanjungha mirror homestay :- Lalit ji: – 9775915047
  4. Padmachen:- Silent woods: 9635500551
  5. Zuluk: Tibetan villa : 9832043666
  6. Lungthung: Lamakhagang homestay: 9933471 202

আপনারা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে জার্নি শুরু করুন এবং প্রথম দিন শেষ করুন সিলেরিগাওন। যাদের পাহাড় যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা কিন্তু শরীর খারাপের ভয় থাকে তাদের জন্য বলব একটানা লং জার্নি না করে ধাপে ধাপে পৌঁছান এবং সুন্দর করে শেষ করুন গোটা জার্নি। পাহাড়ের বুক চিড়ে সর্পিল আঁকাবাঁকা পথ ধরে তিস্তাকে একপাশে সঙ্গী করে সোজা চলে আসুন সিলারিগাঁও সিলারিগাঁও পাহাড়ের কোলে এক ছোট্ট গ্রাম। কংক্রিটের শহর ছেড়ে কোলাহল কে বর্জন করে এ এক শান্ত নিরিবিলি সবুজ ঘেরা গ্রাম। ঠিক যেন ছবির মত। এই গ্রামে দূষণ মুক্ত বাতাস গ্রাম্য পরিবেশ মেঘে ঢাকা পাহাড় আপনাকে ফ্রেশ করে তুলব। এটি একটি মন ভাল করার মত জায়গা। বলে রাখা ভাল নিউ জলপাইগুড়ি থেকে এটি দূরত্ব ৪/৫ ঘন্টা মত। এখানে একটা রাত্রি বিশ্রাম নিয়ে পরের দিন সকালে বেরিয়ে যান ঋষিখোলার উদ্দেশ্যে।

ঋষিখলা:- সিলারিগাঁঁও থেকে ঋষিখলা আসার সময় রাস্তায় জল খাবার সেরে নেবেন । যারা সিলারিগাঁও চান না তারা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ডাইরেক্টলি ঋষিখলা আসতে পারেন সময় লাগে 7 ঘন্টা মত ।এটি অ্যাডভেঞ্চার সন্ধানে এবং প্রকৃতিকে যারা ভালবাসেন তাদের জন্য একটা দারুন জায়গা। পাহাড় জঙ্গলের বুক চিরে কলকল ধ্বনিতে বয়ে চলা নদী আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য করবে । আমি বলবো আপনাদের উচিত নদীর ধারে বসে কিছুটা সময় কাটানো । যখন আপনারা নদীতে পা ডুবিয়ে থাকবেন তখন আপনাদের সমস্ত ক্লান্তি এক নিমিষেই যেন হাওয়া হয়ে যাবে। তারপর কিছুটা সময় নদীর সাথে হেঁটে বেড়ান ।অসম্ভব সুন্দর পরিবেশ । একটা দিন ঋষিখলা অবশ্যই কাটান।

তারপর তৃতীয় দিন বেরিয়ে পড়ুন মানখিমের উদ্দেশ্যে। মানখিমের নামকরণ করা হয়েছে খাম্বু মন্দির দাঁড়া। নেপালের অন্যতম প্রাচীন জাতি গোষ্ঠী সিকিমের আরি তারে বসবাসরত। এই আরিতার গ্রামে একটি পাহাড়ের ওপর মানখিম অবস্থিত। পাহাড়ের ওপর থেকে জঙ্গল পরিবেষ্টিত ছোট্ট একটি লেক দেখা যায় । যা সত্যিই অসাধারণ দেখতে দেখে যেন মনে হবে মানুষের পায়ের ছাপ। সারি সারি দলবদ্ধ ভবে দেখতে পাবেন পাইন আরফার গাছের জঙ্গল। এই শান্ত জলে আপনারা চাইলে বোটিং করতে পারেন। এর সামনেই আছে অমিতাভ স্ট্যাচু। গৌতম বুদ্ধের আরেক নাম অমিতাভ। এবং এর কাছেই আছে আরীতার মনেস্ট্রি।

সবকিছু শেষ করে এবার চলে যান জুলুকের উদ্দেশ্যে । মাঝে গাড়ি থামবে রঙলি বাজার। সেখানে দুলুকে যাওয়ার জন্য অনুমতি পত্র করাতে হয়। ভোটার কার্ডের জেরক্স এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিয়ে যাবে এবং মাথাপিছু পড়ে 300 টাকা ওটি আপনারা আপনাদের গাড়িচালককে দিয়ে দিন সেই আপনাদের অনুমতি পত্র করে আনবে। এটি করা একটু সময় সাপেক্ষ তাই সেই সময়টা আপনারা চাইলে বাজার ঘুরে দেখতে পারেন এবং পছন্দমত নানা রকম বুদ্ধের মূর্তি সহ আরো নানা শীতবস্ত্র কেনাকাটা করতে পারেন এরপর অনুমতি পত্র হয়ে গেলে গাড়িতে উঠে পড়ুন এবং উদ্দেশ্যে রওনা দিন এবং মাঝখানে পথে পড়বে কিউ খোলা জলপ্রপাত যেখানে আপনারা কিছুটা সময় কাটিয়ে নিন খুবই সুন্দর পাহাড়ি ঝরনা এটি এবং এটি দেখা হলে আবার গাড়ি নিয়ে রওনা হন জুলুকের পথে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপূর্ব সৌন্দর্য্যের অধিকারী একটি স্থান এটি প্রায় সমতল থেকে 11 হাজার ফুট উপরে অবস্থান করছে যার ফলে এটি ঠাণ্ডা ও প্রচুর তাই জন্য এই পথে যেতে হলে আপনাদেরকে ভারী শীতের পোশাক অবশ্যই রাখতে হবে। জুলুকের মূল দ্রষ্টব্য অবশ্যই পাহাড়ের কোলে এঁকেবেঁকে চলার রাস্তা। জিগজ্যাগ রাস্তা একসাথে পরপর ২২ টি বাঁক নিয়ে এঁকে বেঁকে অজগর সাপ মত চলে গেছে এই সিল্ক রুটের রাস্তা। এখানে গোটা গ্রাম এ ৭০০ টি পরিবার বাস। শীতের অধিকাংশ সময় এটি পুরু বরফের চাদর মুড়ে থাকে। তবে সীমান্তে চিন থাকায় সেনা বাহিনী সারা বছর রাস্তা চালু রাখে। এই জিগজ্যাগ রোড উপর থেকে উপরে উঠলে পৌঁছে যাওয়া যায় থামবি ভিউ পয়েন্ট, নাথাং ভ্যালি, এলিফ্যান্ট লেক, বাবা মন্দির দিকে।

এই ট্রিপ টি ভিডিও দেখতে চাইলে আমার ইউটিউব চ্যানেল Travel with jayee subscribe করুন। এবং আমার সঙ্গে থাকুন।

Leave a comment